আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ঘি বিক্রি হয়, কিন্তু সব ঘি কি খাঁটি? নকল ঘি থেকে খাঁটি ঘি চেনা প্রয়োজন, এবং এজন্য আমরা কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে বাজারের সেরা খাঁটি ঘি চেনার উপায় শিখতে পারি। এখানে খাঁটি ঘি চেনার কিছু কার্যকর পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
ঘ্রাণের মাধ্যমে
খাঁটি ঘি সাধারণত একটি মনোমুগ্ধকর সুগন্ধযুক্ত হয়। নকল ঘিতে কৃত্রিম সুগন্ধি যুক্ত করা হয়, যা কিছুদিন পরেই নষ্ট হয়ে বাজে গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। তাই, খাঁটি ঘি খুঁজতে এর সুগন্ধের উপর নির্ভর করা যেতে পারে।
গলানোর পরীক্ষায়
একটি গরম পাত্রে এক চামচ ঘি দিন। যদি ঘি সহজেই গলে গাঢ় বাদামী বর্ণ ধারণ করে, তবে এটি খাঁটি। না গললে বুঝতে হবে ঘি ভেজাল বা বিশুদ্ধ নয়।
হাতের তাপমাত্রায় গলানো
হাতের তালুতে জমাট বাঁধা ঘি নিলে এটি শরীরের তাপমাত্রায় গলে যাবে। এছাড়া, ঘি এর বোতল গরম পানিতে রাখলে যদি গলে যায়, তাহলে এটি খাঁটি। জমাট বাঁধা থাকলে এটি নকল।
রঙের মাধ্যমে পরীক্ষা
খাঁটি ঘি সাধারণত হালকা সোনালি হলুদ বর্ণের হয়। যদি ঘি এর রং বেশি উজ্জ্বল বা ভিন্ন রঙের হয়, তবে এটি ভেজাল হতে পারে।
চিনি পরীক্ষায়
এক চামচ ঘি পরিষ্কার বোতলে নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণ চিনি মেশান। মিশ্রণটি ঝাঁকিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। যদি লাল রঙের আস্তরণ না জমে, তাহলে ঘি খাঁটি। লাল আস্তরণ জমলে এটি ভেজাল।
জমাট বাঁধার পরীক্ষা
বাজার থেকে ঘি কিনে তা তরল অবস্থায় করে পুনরায় ফ্রিজে রাখুন। যদি আগের মতো জমাট না বাঁধে, তাহলে এটি নকল।
পরিষ্কারতা ও স্বচ্ছতা
আসল ঘি দেখতে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হয়। দানাদার ঘি ছাড়া অন্য ঘি-তে দানাদার ভাব থাকলে এটি নকল।
আয়োডিন পরীক্ষা
একটি পাত্রে ঘি নিয়ে তাতে দুই ফোঁটা আয়োডিন মেশান। যদি মিশ্রণের রং পরিবর্তন না হয়, তাহলে ঘি আসল। রং পরিবর্তন হলে এটি ভেজাল।
স্থায়িত্ব
খাঁটি ঘি অনেকদিন ভালো থাকে, কিন্তু বাজে কোয়ালিটির ঘি কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে যায় বা বাজে গন্ধ ছড়ায়।
এছাড়াও, ঘি কেনার আগে এর প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ড যাচাই করে নেওয়া উচিত। খাঁটি ঘি সাধারণত ভালো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং এর প্যাকেজিংয়েও মানের চিহ্ন থাকে। এসব উপায় মেনে চললে আপনি সহজেই খাঁটি ঘি চিনতে পারবেন

